ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী

আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে কৌশলগত সংরক্ষণাগার

আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা দেশীয় বাজারেও সংকট তৈরি করে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমদানীকৃত পণ্যের জন্য ‘‌কৌশলগত সংরক্ষণাগার’ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবেলায় আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।’

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি, তা হলো আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন। প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করাই আমাদের অঙ্গীকার।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার উভয়ে সমন্বিতভাবে এসব পদক্ষেপের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কীভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।’

সরকার বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’ এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রফতানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’

সরকার বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআই-ভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরো সময়োপযোগী করা হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিসিবির জন্য একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি-বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপ আরো কার্যকর, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে।’

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানীকৃত পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া কোরবানি-পরবর্তী সাতদিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।’

আরও